জ্বালানি তেল বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ সিস্টেমের আওতা বাড়িয়েছে সরকার। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে তেলের রেশনিং এবং সুশৃঙ্খল সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজধানীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনে এই সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বাংলাদেশ ইতিহাস
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে এই কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন চালক কী পরিমাণ তেল নিচ্ছেন তার স্বচ্ছ হিসাব থাকবে এবং একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন না। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিসরে এটি চালু হলেও এখন এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
যে ১৮টি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ লাগবে:
তালিকা অনুযায়ী ঢাকার প্রধান প্রধান পয়েন্টের এই ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা ‘ফুয়েল পাস’ ছাড়া তেল মিলবে না। পাম্পগুলো হলো:
১. করিম অ্যান্ড সন্স (শাপলা চত্বর)
২. ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ (মহাখালী)
৩. মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন (এয়ারপোর্ট, উত্তরা)
৪. মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি (তেজগাঁও শিল্প এলাকা)
৫. মেসার্স দিপ্ত ফিলিং স্টেশন (সেকশন-১৪, মিরপুর)
৬. মেসার্স কামাল ট্রেডিং এজেন্সি (তেজগাঁও)
৭. মেসার্স এসপি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড (গাবতলী)
৮. সিটি ফিলিং স্টেশন (তেজগাঁও)City & Local Guides
৯. সেবা গ্রিন ফিলিং স্টেশন (উত্তরা)
১০. স্যাম অ্যাসোসিয়েটস (মিরপুর-২)
১১. সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন (কালশী রোড, মিরপুর)
১২. ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন (তেজগাঁও)
১৩. সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন (আসাদগেট)
১৪. গুলশান সার্ভিস স্টেশন (মহাখালী)
১৫. মেঘনা মডেল পাম্প (শাহবাগ)
১৬. নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার (নিকুঞ্জ)
১৭. খালেক সার্ভিস স্টেশন (দারুসসালাম, মিরপুর)
১৮. তালুকদার ফিলিং স্টেশন (আসাদগেট)
১৯.তালুকদার ফিলিং স্টেশন (আসাদগেট)
চালক ও মালিকদের ‘ফুয়েল পাস’ (Fuel Pass) অ্যাপ বা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে গাড়ির তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে একটি কিউআর কোড পাওয়া যাবে, যা পাম্পে প্রদর্শন করে তেল সংগ্রহ করা যাবে। স্মার্টফোন না থাকলেও এই কোডটি প্রিন্ট করে সাথে রাখা যাবে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর ফলে তেলের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব হবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সকল পাম্পকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।